বর্ণ মানে গুণ ও কর্ম কখনো জাতপ্রথা অথবা জাতিভেদ নয় - Nk Barta- Human religion is humanity

Nk Barta- Human religion is humanity

All kinds of information

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Thursday, July 30, 2020

বর্ণ মানে গুণ ও কর্ম কখনো জাতপ্রথা অথবা জাতিভেদ নয়




সনাতন ধর্ম অনুসারিদের হিন্দু বলা হয়  হিন্দু সমাজে চলমান একটি কুসংস্কার হলো , জাত প্রথা অথবা জাতি ভেদ   এখানে জাত প্রথা বলতে – হিন্দু , মুসলিমবৌদ্ধ,খ্রীষ্টান নয়  জাতি ভেদ বা জাত প্রথা বলতে হিন্দু সমাজের অধিপতিরা বুঝে – ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয়বৈশ্য , শুদ্র 
তাই হিন্দু সমাজে  শীর্ষে যারা অর্থাৎ ব্রাহ্মণ শ্রেণীর নিকট – নিম্নোক্ত বর্ণের কোন মূল্য নাই অর্থাৎ এদের নিকট মুসলিম সম্প্রদায়ের দাম  অনেক বেশি 
তদ্রুপ ক্ষত্রিয় রাও এমনটাই ভাবে  অথচ হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তুর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা যদি নিন্ম শ্রেণীর হিন্দুদের বাড়ীতে খাবার খায় বা নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরা যদি ছুঁয়ে দেয় তাহলে নাকি অশৌচ  হয়  অথচ এই উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা দেখবেন ম্লেচ্ছ  বর্বরদের সাথে মিশে , এক সাথে চা খায় , গ্লাসে জল খায় পাড়া বা হাট বাজারের দোকানগুলোতে  তখন এদের অশৌচ হয় 
এদের নিকট , যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের নয় – তারা যেন পবিত্র এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের  অন্তুভুক্ত হয়ে  নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুরা যেন অপবিত্র 
এই যে হিন্দু সমাজে চলমান ধারণা এখনো চলমান  এই কুসংস্কার হিন্দু সমাজে যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করছে , তা হয়ত উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা  এখনো অনুধাবন করতে পারে নি 
হিন্দু সমাজের উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা শাস্ত্রের  অপব্যাখ্যা করে – কতৃত্ব দেখাতে গিয়ে আজ হিন্দু সমাজের মেরুদন্ড ভেঙ্গে ফেলছে  যার কারনে হিন্দুদের মাঝে নেই একতা , হিন্দুরা যেন ছত্রভঙ্গ  তাই শিকারিরা  ওৎ পেতে থাকে শিকারের জন্য 
শাস্ত্রের কি আছে ?
শাস্ত্রে স্পষ্ট আছে বর্ণ মানে হলো কর্ম  বর্ণ মানে জাত প্রথা বা জাতি ভেদ নয় দুঃখের বিষয় , বর্ণ ভেদ বলতে আমরা এখনো জাতিভেদ কেউ বুঝে থাকি  অর্থাৎ আমরা এখনো কুসংস্কার থেকে বেড়িয়ে আসতে পারি নি   এখনো আমরা অতীতের সেই ধ্বংসাত্মক চলমান কুসংস্কারকে লালন  পালন করে যাচ্ছে , অথচ শাস্ত্র পড়েও আমরা সংস্বারের পথে হাটছি না 
বর্ণ মানে কি জাত প্রথা অথবা জাতিভেদ?
উত্তর – বর্ণ মানে হলো কর্ম 

চারটি জাতের নাকি চার টি বর্ণের উৎপত্তি হয়েছে ?

উত্তরঃ আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে , বর্ণ মানে জাত প্রথা অথবা জাতি ভেদ নয় বর্ণ মানে হলো কর্ম  অবশ্যই চারটি বর্ণের উৎপত্তি সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক হযেছে কিন্তু জাত প্রথা বা জাতিভেদের উৎপত্তি সৃষ্টি কর্তা দ্বারা উৎপত্তি হয় নি 

চতুর্বণের উৎপত্তিঃ

চতুরবর্ণের উৎপত্তি নিয়ে অনেকে অপ-প্রচার করেছেন , ব্রেন ওয়াশ করে ধর্মান্তরের জন্য  এখনো এই রকম প্রপাগান্ডা যে আর নেই , তা বলা যায় না  এখনো অপপ্রচার গুলো চালানো হচেছ  আর এতে সেইসব হিন্দুরাই ধর্মান্তুরিত হচ্ছে , যাদের সনাতন ধর্ম এবং শাস্ত্র বিষয়ে স্পষ্ট জ্ঞান নেই 
শ্রীমদ্ভগবগীতার চতুর্থ অধ্যায় জ্ঞান যোগের ১৩ শ্লোক দেখা যাক




শ্লোকে স্পষ্ট বলা হয়েছে কর্ম অর্থাৎ বর্ণের কথা কোন জাত প্রথার বা জাতি ভেদের কথা নাই  যদি না থাকে , বর্ণভেদ কে জাত প্রথা বা জাতি ভেদে রুপান্তর করা কি শাস্ত্রের বিকৃত নয় ?
সৃষ্টিকর্তা স্বয়ং এই কর্মভেদ তৈরী করেছেন  এমন কোন বস্তু নেই যে তার কোন শ্রেণীভেদ বা কর্মভেদ নেই  সাধারণ ভাবেই ভাবুন নাআমরা তো লেখাপড়া করি  লিখাপড়া একটি বিষয়  কিন্তু   এখানে এত শ্রেণীভেদ কেনএই শ্রেণীভেদ কি বৈষম্য করেছে  কখনোই না , তাহলে বর্ণভেদ হিন্দু সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করছে কেন ? কারণ এই কথাকে বিকৃত করে হিন্দু সমাজের অধিপতিরা অতীতে নিম্ন শ্রেণীর হিন্দুদের উপর শাস্ত্র দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার কর ছিল মূল লক্ষ্য  মূলত হিন্দু সমাজে উঁচু নিচু বলে কিছু নেই  কর্ম যদি খারাপ হয় তাহলে নিচু আর কর্ম যদি ভাল হয় সনাতন তাকে উচ্চ শ্রেণীর পর্যায়ে অন্তুর্ভুক্ত করেছে  আর এতে বৈষম্য নয় বরং শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে 
শ্রীভগবান স্পস্টই বলেছেনগুণ  কর্মের বিভাগ অনুসারে চারটি বর্ণ সৃষ্টি হয়েছে  গুণ বলতে এখানে সত্ত্বরজঃ তমঃ এই তিন গুণ কে বুঝায় 
আর শাস্ত্রে সত্ত্ব প্রধান বলতে ব্রাহ্মণদের বুঝায়  আর এদর কর্ম হলোসৎ চরিত্রের সাথে অধ্যাপনাদি করা 
যাদের মাঝে সত্ত্ব গুনের পরিমাণ কম  আর রজঃ গুনের প্রাধান্য বেশি তাদের বলা হয় ক্ষত্রিয়  এদের কর্ম হলো যদ্ধাদি  উদাহরন হিসেবে বলা যায় – দেশ রক্ষায় যারা কাজ করে তাদের কে শাস্ত্রের ভাষায় ক্ষত্রিয় বলা যায়  যেমন , সেনাবাহিনী , পুলিশ ইত্যাদি
যাদের মাঝে তম গুণ অল্প পরিমাণে থাকে – আর রজঃ গুণ বেশি থাকে তাদের কে শাস্ত্রের ভাষায় বৈশ্য বলা হয়  এদর কর্ম কৃষিকাজ এবং ব্যবসা বাণিজ্য করা 
আর যাদের মাঝে তমঃ গুণ বেশি থাকে তাদের কাজ হলো অন্য তিন শ্রেণীর লোকদের সেবা করা  উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ডাক্তার 
তাহলে গুণ কর্ম অনুযারি প্রতিটি মানুষ চলছে  আর এতে তো বৈষম্য নেই  বরং এখানে সুশৃঙ্খল ভাবে কর্ম নির্ধারণ করা হয়েছে 
আবার খুব সুক্ষ্মু ভাবে বিবেচনা করলে – একটি মানুষ একসাথেই চারটি বর্ণই সম্পাদন করে 
যেমন , যখন  একজন লোক – লেখাপড়া করে অথবা কোন বিষয়ে গবেষনা বা অধ্যাপনা করে তখন ব্রাহ্মণআর যখন জীবন নির্বাদের জন্য অর্থপার্জন করে নিজে এবং পরিবারের জীবন নির্বাহ করেন তখন  ক্ষত্রিয় , আর যখন জীবন যাত্রার মান্নোয়নে কৃষি কাজ বা ব্যবসা বাণিজ্য অথবা চাকরি করেন তখন বৈশ্যর আর যখন পরিবারের রোগাক্রান্ত পিতা মাতা বা সন্তাদের সেবা করা হয় তখন শুদ্রের ভূমিকা পালন করেন 
এই জন্যই ঋকবেদে বলা হয়েছে –

যখন এই চার বর্ণকে আমরা দেহের সাথে মিলাবো তার মিল গুলো-
এই চার বর্ণকে দেহের সাথে মিলাতে গেলে দেখবো , একজন মানুষের মুখ ব্রাহ্মণের ভূমিকা পালন করে  কারণ মুখ দিয়ে শাস্ত্র অধ্যাপনাদি করা হয় এবং সত্য ভাষন ব্যক্ত করা হয় 
দুই হাত অর্থাৎ বাহু হলো শক্তির প্রতীক  অর্থাৎ এই দেহে ক্ষত্রিয়েরে প্রতীক হলো দুই হাত বা বাহু  
আমাদের দেহ যার উপর ভর বা নির্ভর করে তাকে উরু বলে 
আর পা এর নির্ভর করে একটি দেহ বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করতে পারে  অর্থাৎ পা এর দ্বারাই দেহের তিনটি অংশের কাজ সমাধা হয় , দেহের তিনটি অংশ কে পা  এভাবেই সেবা করে থাকে 
তাই পা হলো একটি দেহের শুদ্র স্বরুপ 

বর্নভেদ উন্নতি নাকি অবনতিঃ


সৃষ্টিকর্তা বর্ণভেদের মা্ধ্যমে সমাজের একনায়ক তান্ত্রিকতাকে কুড়ালাঘাত করে গণতান্ত্রিকতা প্রদান করেছেন  অর্থাৎ বংশপরম্পরাকে কুঠারঘাত করেছেন  প্রধানমন্ত্রীর ছেলে যে প্রধানমন্ত্রী হবে , এই একনায়ক তান্ত্রিকতা নেই সনাতন শাস্ত্রে  যদি প্রধানমন্ত্রীর ছেলের প্রধান মন্ত্রী হওয়া গুণ বা যোগ্যতা না থাকে সে কখনোই প্রধান মন্ত্রি হবে না 
আরো  স্পষ্ট হওয়া যাক,
যিনি বলেন যে,  আগে জীবের জন্ম , তারপর তার সত্ত্বপ্রধানাদি স্বভাব  তাহলে তাকে অবশ্য স্বীকার করতে হবে , মানুষের বংশানুসারে নয় , গুণ অনুসারেই তার ক্ষমতাদি হয়  অর্থাৎ ব্রাহ্মণের পুত্র হলে যে তাকে ব্রাহ্মণ হতে হবে  এমন  সত্ত্বগুণ প্রধান স্বভাব হলে শুদ্রের সন্তান হলেও ব্রা্হ্মণ হবে  আর ব্রাহ্মণের পুত্র তমোগুণ প্রধান স্বভাব হলে সে শুদ্র হবে 
অর্থাৎ এ থেকে বুঝা গেল যে, জাতপ্রথা বা জাতি বিভেদ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রে নেই অথবা সনাতন ধর্মে তা স্বীকৃত নয় । সনাতন ধর্মে বর্ণভেদ আছে , আর বর্ণ কখনোই জাতিকে নির্দেশ করে না । শ্রীমদ্ভগবদগীতায় বর্ণ মাণে স্পষ্ট বলেছে গুণ ও কর্ম ।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here