সনাতন অনুসারি রা সাকার নাকি নিরাকার উপাসক - Traditional followers are physical or formless worshipers - Nk Barta- Human religion is humanity

Nk Barta- Human religion is humanity

All kinds of information

Breaking

Home Top Ad

Responsive Ads Here

Post Top Ad

Responsive Ads Here

Friday, July 31, 2020

সনাতন অনুসারি রা সাকার নাকি নিরাকার উপাসক - Traditional followers are physical or formless worshipers



সনাতন অনুসারিরা দুই পদ্ধতিতেই সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা , উপাসনা অথবা সাধন ভজন করতে পারে যারা ভক্তিমার্গ কে ভাল মনে করেন তারা করেন সাকার উপাসনা আর আকারে উপাসনা করেন না তারা করে নিরাকার উপাসনা নিরাকার সাকার নিয়ে অনেক আগেই যু্ক্তিখন্ডন করা হয়েছে হিন্দুরা কোন যুক্তিতের বলে ঈশ্বর্ নিরাকার? পোষ্টে আশা করি পোষ্ট পড়ে নিবেন
এটা আবার মনে করে দিতে চাই , সর্বশক্তিমান অর্থ হলোসৃষ্টিকর্তা্/ঈশ্বর/পরমেশ্বরের যদি কোন শক্তির সীমাবদ্ধতা থাকে তাকে সেই সৃষ্টিকর্তা কখনই সৃষ্টিকর্তা নয় সৃষ্টিকর্তা হতে হলে তার সবধরনের শক্তিই থাকবে , তবেই সর্বশক্তিমান কথাটি পূর্ণতা পাবে তাই তো জ্ঞানীরা বলে থাকেন, ঈশ্বর সর্বমাঝে বিরাজিত আর মূর্খরা ঈশ্বরকে একটি জায়গায় আবদ্ধ করে রেখেছেন আর সৃষ্টিকর্তার নিবাস হলো সাত আশমানের উপর আরশে আর হলো সৃষ্টিকর্তার ঘর
এখন এখানে কয়েকটি প্রশ্ন উদয় হয় , তাহলো-

  • যারা সৃষ্টিকর্তাকে নিরাকার বলে চিৎকার করেছিল তারাই আবার সৃষ্টিকর্তার জন্য বসবাসের ঘর বানিয়েছেন কিন্তু কেন ? নিরাকার সৃষ্টিকর্তার তো ঘরের কোন প্রয়োজন নেই তাই না
  • সৃষ্টিকর্তা্ যদি নিরাকার থেকে আকার হতে না পারে , সে সৃষ্টিকর্তার সর্বশক্তিমানতা হ্রাস পায় আর অবশ্যই নিরাকার সৃষ্টিকর্তা যদি আরশে বসবাস করে তাহলে তো তার সাকারত্ব  আছে , তাই নয় কি ?
  • যারা সৃষ্টিকর্তার নিরাকারত্ব বিশ্বাস করে কিন্তু সাকারত্ব বিশ্বাস না করে সাকার বাদীদের মূর্খ , ধর্মহীন , বহুঈশ্বরবাদী বলে তাদের সৃষ্টিকর্তার ঘরের অথবা আরশে বসবাস করার প্রয়োজন কি ?
  • নিরাকার সৃষ্টিকর্তা নিরাকারত্ব ছেড়ে ঘরে এবং আরশে বসাবাসের জন্য চলে এল , অর্থাৎ সাকারত্ব প্রাপ্ত হলো তাহলে সৃষ্টিকর্তার প্রতীক কিরকম আদৌ কি তারা বলতে পেরেছে ?
 অবাঞ্চিত তর্ক বিতর্কের আগে তর্ক বিতর্ক, জ্ঞানীরা করে না , জ্ঞানীরা যুক্তি পছ্ন্দ করে , যদি যুক্তি দেখাতে পারেন অবশ্যই যুক্তি খন্ডন করবেন অযথা তর্ক বির্তক করে মূল্যবান সময় কারো নষ্ট করা উচিত নয়
সনাতন ধর্ম এটা প্রমান করেছে, যে সাকারবাদিদের জন্য   উপাসনালয় বা প্রতীকের প্রয়োজন আর যারা নিরাকারবাদী তাদের জন্য কোন উপাসনালয় প্রয়োজন নেই আর যারা নিরাকার নিরাকার বলে চিৎকার করে , তাদের উপাসনা যদি আবার উপাসনালয়ে গিয়ে সমাপ্ত করতে হয় তারা তো ভন্ড কারণ নিরাকারবাদীদের সংসারে প্রয়োজন নেই , সংসার ধর্ম পরিত্যাগ করেই নিরাকার, কষ্টের পথ বেছে নেয় সংসারে থেকে যারা নিরাকার ভজনা করে , তারা হলো মহামূর্খ কারণ সংসারে থেকে লোভ , লালসা , কাম , ক্রোধ থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়
 অনেকের দাবি সনাতন অনুসারিরা বহু সৃষ্টিকর্তার উপাসকঃ
আসলে কি তাই? তা অবশ্য নয়  সনাতন শাস্ত্রের কোথাও বলা নাই সৃষ্টিকর্তা একাধিক আর কেউ দেখাতে পারবে না  সনাতন শাস্ত্র থেকে , সৃষ্টিকর্তা একাধিক সনাতন শাস্ত্রে যদি সৃষ্টিকর্তা যে একাধিক নয় তা বলা থাকে , তারা কোন যুক্তিতে বলে সনাতন অনুসারিরা বহুঈশ্বরবাদি অবশ্যই তারা কারো কাছে শুনেছে , শাস্ত্র পর্যবেক্ষণ না করে  তাই তো ভুল ভ্রান্তি মন থেকে তাদের যায় না , অথচ এরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত পর্যন্ত হয় কিন্তু কয়েকটি কথার অর্থ বোধগম্য আজ অব্দি হয় না

ঋকবেদে স্পষ্ট বলা আছে, সৃষ্টি কর্তা এক সৃষ্টিকর্তাকে একাধিক নাম জ্ঞানী অর্থা সাধকরাই দিয়েছেন দূর্গা কালি , সরস্বতী ,ব্রহ্মা , বিষ্ণু. অগ্নি , সূর্য , মাতশ্বিরা ইত্যাদি  এক সৃষ্টিকর্তার নাম
এক সৃষ্টিকর্তার একাধিক নাম কে দিয়েছে?
বিপ্রগণ অর্থা বিপ্র অর্থাৎ জ্ঞানী , উপসাক, সাধক  ইত্যাদি সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করতে গিয়ে জ্ঞানীরা সৃষ্টিকর্তার শক্তিকে নিত্য নতুন ভাবে অনুভব উপলব্দি করে থাকে , সেই অনুভব উপলব্দি থেকেই বিপ্রগণ সৃষ্টিকর্তার শক্তিকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করে , পরে তা জন সমাজে প্রচারিত হয় এবং তা সমাজে প্রচলিত হয়ে থাকে তাই বলে কি এক সৃষ্টিকর্তা বহু হয়ে গেছে ? কখনোই না অর্থাৎ থেকেই বুঝা যায় , হিন্দুরা বহু ঈশ্বরের উপাসক নয় এক ঈশ্বরকেই সাধকরা বিভিন্ন নামে অভিহিত করে উপাসনা করে থাকে যারা  এসব নিয়ে প্রপাগান্ডা চালায় , তারা মূলত মূর্খ এক কথায় শিক্ষিত মূর্খও বলা যায়
আরো দাবি করে হিন্দু পৌত্তলিকঃ
নিন্দার ঝড় চারদিকে , কারন হিন্দুরা পুতুলের পূজা করে কারন ওরা প্রমান করতে চায় , পুতুলে সৃষ্টিকর্তার শক্তি অন্তর্নিহিত থাকেনা সৃষ্টির এমন কোন উপাদান নেই যে সৃষ্টিকর্তার শক্তি অন্তর্নিহিত নেই আমরা প্রত্যেকেই জানি বিশ্বাস করি , সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান সেই সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তার শক্তি অব্যক্ত ভাবে পুতুলের মাঝে নেই, তাহলে কি সৃষ্টিকর্তার সর্বশক্তিমানতা হ্রাস সীমাবদ্ধ হল না
এর আগে  এই বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়ে গেছে সৃষ্টিকর্তার দুটি শক্তি ব্যক্ত এবং  অব্যক্ত অব্যক্ত ভাবে সৃষ্টিকর্তার শক্তি সৃষ্টির প্রতিটি উপাদানের মাঝে আছে তাহলে অপপ্রচারকরা কেন বলে , পুতুলের মাঝে নেই ? এর থেকেই বুঝাই যায় , অপপ্রচারকরা সৃষ্টিকর্তা যে সর্বশক্তিমান , সে কথা বিশ্বাস করেই না , আর সৃষ্টিকর্তা সর্বশক্তিমান নয় অপপ্রচারকরা এটাও প্রমাণ করল তাই নয় কি?
এমামাত্র সনাতন ধর্মই সৃষ্টিকর্তার বিভিন্ন বিভুতিকে প্রচারিত করেছেন যারা সনাতন ধর্ম কে সহ্য করতে পারে না , তাদের সনাতন ধর্মের অফুরন্ত জ্ঞান কে সহ্য করতে না পেরে হিংসা বশত অপপ্রচার করে , হিন্দুদের ব্রেন ওয়াশ করে মতান্তরিত করে কুয়োর ব্যাং করতে চায় কারণ তারা তো কুয়োর ব্যাং মানুষের ধর্ম মানবতা এবং মুন্যষত্ব তাই আমি মতান্তরিত শব্দুটি উল্লেখ করেছি
আর ধর্মান্তরিত শব্দটি অর্থ হলো মানুষ যদি মানবতা এবং মনুষ্যত্ব ত্যাগ করে পশুর ধর্ম গ্রহণ করে তা হবে ধর্মান্তরিত
প্রতিমা পুতুল কি একই ?
প্রতিমা আর পুতুল এক নয়   প্রতিমা হলো সৃষ্টিকর্তার একটি কাল্পনিক রুপ সাধকরা এই কাল্পনিক রুপকে একটি আকার দিয়ে মনস্থির করে সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করে আর বিভিন্ন সাধকের কাছে সৃষ্টিকর্তার কাল্পনিক রুপ বিভিন্ন রুপ আর তার আকার বিভিন্ন তাই এসব দেখে মহামূর্খরা বলে হিন্দুদের ভগবানের তিন মাথা, চারমাথা, এত চোখ এত কান ইত্যাদি ইত্যাদি
বিজ্ঞানীরা যখন কোন কিছু আবিস্কার করে , অর্থাৎ আবিষ্কার করার আগে তা ছিল শুধু মাত্র কল্পনা সেই কাল্পনিক সত্তাকে উপাসনা করতে করতে এর একটি রুপ দেয় মোবাইল , টেলিভিশন , থেকে শুরু করে বিজ্ঞানীদের যত কিচু আবিস্কারকৃত আকার আছে তা  আবিষ্কার করার পূর্বে এসবের শুধু কাল্পনিকতাই ছিল , বাস্তবে কোন রুপ ছিল না কিন্তু এসব নিয়ে রিসার্স নিয়ে গবেষনা )যাকে সাধকদের ভাষায় উপাসনা বলে )  করে কল্পনাকে বাস্তবে রুপ দিয়েছে তেমনি বিভিন্ন সাধক , একসৃষ্টিকর্তাকে উপাসনা করতে গিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে বিভিন্ন ভাবে কল্পনার রঙ্গে অঙ্কন করে  একটি আকারে রুপায়িত করে সাধন ভজন করেছেন
দেবতা গণ কি ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তাঃ
না, দেবতাগণ সৃষ্টিকর্তা নন দেবতাগণ যদি সৃষ্টিকর্তা হত, তাহলে সনাতন ধর্মে সৃষ্টিকর্তার অভাব হত না কিন্তু সনাতন শাস্ত্র স্পষ্টই বলেছেন, সৃষ্টিকর্তা এক এবং  অদ্বিতীয়  দেবতাগণ হলেন সৃষ্টিকর্তার শক্তিবিশেষের বিভিন্ন প্রকাশ বা বিভূতি শক্তিমান মানুষকে বলা হয় ঐশরিক শক্তির সাময়িক প্রকাশ , আর তেমনি হল দেবতাগণ ঐশী শক্তির ততোধিক প্রকাশ এটাই পার্থক্য শুধু
তাহলে যারা বলছে , হিন্দুরা বহু সৃষ্টিকর্তার উপাসান করে তারা কি ভুল বলেছে?
হ্যা তারা সত্যিই ভুল বলেছে কারণ তাদের সনাতন শাস্ত্র বিষয়ে জ্ঞান নেই আর সনাতন অনুসারিদের প্রকৃত জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও তারা ব্রেন ওয়াশ করে সনাতন ধর্ম অনুসারিরা যেন সনাতন ত্যাগ করে প্রকৃত ধর্ম ত্যাগ মতান্তরিত হয় , সে প্রচেষ্টাই করে
এরা বলে সনাতন ধর্ম বহু সৃষ্টিকর্তাকে উপাসনা করতে বলে , আর আমাদের ধর্ম বলে এক কে উপাসনা করতে অথচ এই একের কথা বলতে কিংবা স্পষ্ট প্রমাণ দিতেও তারা সনাতন শাস্ত্র বেদে চলে আছে , আর বলে দেখেন  এক কে উপাসনা করতে বলা হয়েছে আর আমরা একের উপাসনা করি তাই আমাদের পথ সহিহ
এদেরকে বলতে চাই সনাতন অনুসারিরা 1400 বছরের অনেক আগে থেকেই জানে সৃষ্টিকর্তা  এক এবং অদ্বিতীয় আর আপনাদের 1400 বছর আগের বইকে গ্রহণযোগ্যতার জন্য সনাতন শাস্ত্রেরই রেফারেন্স টানতে হয় , অথচ সনাতন শাস্ত্র বেদ 1400 বছরের অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান এর থেকেই প্রমাণ হয় , সনাতন ধর্মই প্রকৃত ধর্ম
এই জগতে কত ধরনের উপাসক আছে?
এই জগতে দুই ধরনের  উপাসক আছে । এক সাকারবাদী এবং দুই নিরাকারবাদী।  নিরাকারবাদীরা সাকারত্বকে বিশ্বাস করে না । আর এটা তাদের ব্যাক্তিগত ব্যাপার । আর শাস্ত্র ও যুক্তি মতে ,এটাই প্রমাণিত হয় যে, সৃষ্টিকর্তার সর্বশক্তিমানতা প্রমান করতে হলে , নিরাকার থেকে সাকার হওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে ।
সাকারবাদীরা মন স্থির করার জন্য বিগ্রহাদি বা প্রতীকের ব্যবহার করে । যেন ইষ্ট বস্তু থেকে বিভিন্ন দিকে ধাবিত না হয় । এছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় , অনেকে আবার নিরাকারবাদ গ্রহণ করেন ঠিকই কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রতীকের প্রয়োজন স্বীকার করেন । তার কারন, নিরাকারবাদিগণ সৃষ্টিকর্তা অথবা ঈশ্বরের বাহ্য বিগ্রহ বা প্রতীক কে স্বীকার করেন না ঠিকই কিন্তু মনে মনে কোন কোন বিগ্রহ বা প্রতিকের কল্পনা ঠিকিই অঙ্কন করেন ।  মানুষের যে বিবেক , বুদ্ধি তাহাতে চিন্তার অতীত অর্থাৎ অচিন্ত্য অতীন্দ্রিয় বস্তুর ধারণা কখনো করতে পারে না  । সুতরাং যে পর্যন্ত না সাধক প্রকৃতির অতীত হয়ে অতীন্দ্রিয় তত্ত্বজ্ঞান লাভ করেন , সে পর্যন্ত তাকে সাকারের মধ্যে দিয়ে স্থুলের মধ্যে দিয়ে সুক্ষ্মে যেতে হবে , এছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নাই 
এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় । আমরা যখন কোন কিছু চিন্তা করে মন স্থির করি মনে আপনা আপনি একটি কাল্পনিক প্রতিচ্ছবি তৈরী হয়ে যায়  । এটাই হল প্রতীক , বিগ্রহাদি । এই কাল্পনিক রুপ কে বাস্তবে রুপ সাধক , বিজ্ঞানী এবং আত্মবিশ্বাসী লোক জনেই দিতে পারে । দুর্বল অলস লোকের দ্বারা সম্ভব নয় ।
কয় প্রকার ব্যক্তির প্রতীক বা বিগ্রহাদির পূজা বা উপাসনার দরকার নেই ?
দুই ধরনের ব্যক্তির প্রতীক বা বিগ্রহাদির পূজা বা উপাসনার দরকার নেই ।
এক নর পশু , যে কোন ধর্মের ধার ধারে না ।
দুই, সিদ্ধ পুরুষ , যিনি সত্ত্ব , রজঃ , তম গুণকে অতিক্রম করে ত্রিগুণাতীত , ত্রিতাপে তাপিত সংসার কে অতিক্রম করেছেনব ।
আমাদের অবস্থান যতিদিন এই দুই অবস্থার মধ্যে থাকবে ততদিন আমাদের ভিতরে বাইরে কোন না কোনরুপ প্রতীক বা বিগ্রহের প্রয়োজন আছে মনস্থির করার জন্য ।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Responsive Ads Here